কেন এই বই — এবং কার জন্য
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
ফজরের আজান হচ্ছে — কিন্তু আপনি শুনতে পাচ্ছেন না। কারণ জানালা বন্ধ, এসি চলছে, পাশের রুমে টিভি চলছে, এবং কানে এয়ারপড। ঘড়িতে সকাল সাড়ে পাঁচটা — অফিস নয়টায়, ঘুমের সময় আছে। ফজর? ‘আজান শেষ হলে পড়বো পরে পড়বো উঠলে পড়বো’ — আর ওঠা হয় না। সকাল আটটায় অ্যালার্ম — তাড়াহুড়ো — চা, জ্যাম, ব্রেড — বাচ্চাকে স্কুলবাসে তোলা — তারপর দুই ঘণ্টা ট্র্যাফিক। গাড়িতে বসে — ফোনে স্ক্রল, নিউজফিড, ক্লিকবেইট — ‘এই সেলিব্রিটি কী বললেন,’ ‘ওই রাজনীতিবিদ কী করলেন’ — তথ্যের বন্যায় ডুবে যাওয়া, কিন্তু জ্ঞানের এক ফোঁটাও নেই। অফিসে — আট ঘণ্টা, কখনো দশ, কখনো বারো — বসের চাপ, ডেডলাইনের চাপ, ‘পারফরম্যান্স রিভিউ’-এর ভয়। যোহরের নামাজ? ‘মিটিং আছে।’ আসরের নামাজ? ‘রিপোর্ট জমা দিতে হবে।’ সন্ধ্যায় — আবার দুই ঘণ্টা ট্র্যাফিক। বাড়িতে ফিরে — ক্লান্ত, বিরক্ত, নির্জীব। বাচ্চা দৌড়ে আসে — ‘বাবা, খেলবে?’ — ‘এখন না, বাবা ক্লান্ত।’ স্ত্রী বলেন — ‘আজ কেমন ছিল?’ — ‘বলো না, মাথা ব্যথা।’ মাগরিবের আজান? ‘পরে পড়বো।’ ইশার আজান? ‘ঘুমের আগে পড়বো।’ ঘুমের আগে — ফোন। ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, রিলস — ঘণ্টাখানেক — চোখ জ্বালা করছে, মাথা ভার — ঘুম। ইশা? ‘কাজা হয়ে গেলো আল্লাহ মাফ করবেন কাল থেকে ঠিক করবো’ — কাল আর আসে না।