মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু জীবন মাঝেমধ্যে মানুষকে এমন এক কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, যেখানে সে তার ঘরবাড়ি, আপনজন এমনকি নিজের মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলে। রাস্তার ধারে পড়ে থাকা উদ্দেশ্যহীন ভবঘুরে কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন এই মানুষগুলো আমাদের সমাজেরই অংশ। আমরা হয়তো পাশ কাটিয়ে চলে যাই, কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো তাদের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। হাদিসে এসেছে—
أَطْعِمُوا الْجَائِعَ، وَعُودُوا الْمَرِيضَ، وَفُكُّوا الْعَانِيَ.
'ক্ষুধার্থকে খাবার দাও, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ নাও এবং বন্দিকে মুক্ত করো।' (মুসনাদে আবু আওয়ানা : ৭৫৪১; সহিহ বুখারি : ৫৩৭৩)
মানসিক অসুস্থতাও একটি বড় ব্যাধি। সঠিক চিকিৎসা ও একটু সহমর্মিতা পেলে এই মানুষগুলোর অনেকেই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। অথচ অযত্ন আর অবহেলায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই অসহায় মানুষগুলোকে সুচিকিৎসা দেওয়া, তাদের থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা এবং সুস্থ হওয়ার পর তাদের পরিবার খুঁজে বের করে পুনর্বাসন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا.
'আর যে ব্যক্তি কোনো মানুষের প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন পুরো মানবজাতির প্রাণ রক্ষা করল।' (আল-কুরআন, সূরা আল-মায়িদা : ০৫ : ৩২)
মানসিক বিকারগ্রস্ত এই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে আমরা একটি বিশেষ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো: রাস্তায় থাকা অসহায় মানসিক রোগীদের খুঁজে বের করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তাদের পুষ্টিকর খাবার ও সুন্দর আবাসন নিশ্চিত করা এবং সুস্থ হওয়ার পর তাদের কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
আসুন, পথের ধারে পড়ে থাকা এই ছন্নছাড়া মানুষগুলোর সেবায় আমরা এগিয়ে আসি। আপনার সামান্য দান একটি দিশেহারা মানুষকে আবার তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে। আপনার অর্থকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে নির্দিষ্ট ফান্ডে ব্যয় করতে আমরা বদ্ধপরিকর।